ফরিদপুরের শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাত্রা শুরু করেছে ‘ফরিদপুর মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল’ (ইংরেজি ভার্সন)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো, ভর্তি পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় ১৮ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের ১ মে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্মাণকাজ শেষে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, মাল্টিপারপাস হল, ডাইনিং হল ও আবাসিক সুবিধা রয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১২ ও ১৪ আগস্ট থেকে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আবাসিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা ও দেশের অন্যান্য ক্যাডেট কলেজের আদলে এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি সামরিক, প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, ব্যবসা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার উপযোগী করে তোলা হবে।
একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। চিত্রাঙ্কন, সংগীত, আবৃত্তি, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফটোগ্রাফির মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে কাজ করা হবে।
ভর্তি প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, সেনাসদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানরা একই প্রক্রিয়ায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। লিখিত, স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। ভর্তি ফি ছাড়াও মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে বালিকা শাখা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন সেবা খাতের বিকাশ ঘটবে। এর ফলে ফরিদপুরের শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে এমন একটি দক্ষ প্রজন্ম গড়ে উঠবে।