ফেনীর সোনাগাজীতে বড় ফেনী নদীতে জেগে ওঠা চর দখল করে মৎস্য ঘের গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এসব ঘেরের কারণে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চরখোয়াজের লামছি মৌজায় প্রায় শতাধিক একর কৃষিজমি গত চার বছর ধরে অনাবাদি পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এসব জমিতে আমন, আউশ ও রবিশস্যসহ তিন ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিগুলো পতিত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষকরা যেমন চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসকারী কয়েকশ নিম্নআয়ের পরিবারও দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মৎস্য ঘেরের জমে থাকা ও দূষিত পানি বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। এতে নানা রোগব্যাধির পাশাপাশি মশা ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে।
কৃষকদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিংবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শতাধিক একর জমি আবারও চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয় কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আগে এসব জমিতে আমন, আউশ ও রবিশস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। প্রায় চার বছর ধরে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত জমিগুলো চাষাবাদ উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোজাম্মেল হোসেন মাসুদ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের সমস্যার কথা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এর প্রতিকার প্রয়োজন।
ফেনী জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শতাধিক একর জমি পতিত পড়ে আছে। কৃষকরা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনার কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইন বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জমিগুলো চাষাবাদযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।