গুরুদাসপুরে থামছে না সোঁতিজালের দৌরাত্ম্য, বিপাকে কৃষক

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

সারাদেশ

নাটোরের গুরুদাসপুরে কোনোভাবেই থামছে না অবৈধ সোঁতিজালের দৌরাত্ম্য। ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদলায়নি সোঁতিজাল বসানোর চিত্র। মৎস্য বিভাগ বারবার অভিযান ও

2026-09-08T17:24:53+00:00
2026-09-08T17:24:53+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
গুরুদাসপুরে থামছে না সোঁতিজালের দৌরাত্ম্য, বিপাকে কৃষক
গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নাটোরের গুরুদাসপুরে কোনোভাবেই থামছে না অবৈধ সোঁতিজালের দৌরাত্ম্য। ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদলায়নি সোঁতিজাল বসানোর চিত্র। মৎস্য বিভাগ বারবার অভিযান ও উচ্ছেদের আশ্বাস দিলেও নদী-বিলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে বসানো এসব জালের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু সোঁতিজাল জব্দ ও পুড়িয়ে ফেলা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে অভিযান শেষ হলেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে সোঁতিজাল বসানোর সঙ্গে জড়িতরা।

এদিকে রবিশস্য আবাদের মৌসুম সামনে। চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। আত্রাই নদী ও বিলের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের বেড়া ও সোঁতিজাল দিয়ে পানির প্রবাহ আটকে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে মাছের পাশাপাশি আটকা পড়ছে জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় মাছের চলাচল ও প্রজননও।

কৃষকদের অভিযোগ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকায় কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কচুরিপানায় পানি আটকে থাকায় সময়মতো পানি নামছে না। এতে সরিষা, রসুন ও গমসহ রবিশস্যের আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাবগাড়ি বাজার এলাকায় আব্দুল মান্নানের সহযোগীদের সোঁতিজাল বসানোর অভিযোগ রয়েছে। জ্ঞানদানগর সামাদের ঘাটেও রবি মিয়ার সোঁতি বসানোর কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া হরদমা বিলেও সোঁতিজালে মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মকুল, গোলাপ মন্ডল, নাজমুল হক, জিয়াউর ও হান্নান বলেন, পানির প্রবাহ বন্ধ করে মাছ ধরার কারণে শুধু মাছের ক্ষতি হচ্ছে না, কৃষিতেও এর প্রভাব পড়ছে। পানি বের হতে না পারায় জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সব সোঁতিজাল অপসারণের দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এবং প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সোঁতিজাল বসানোর কাজ চলছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, সোঁতি আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে সরেজমিনে সোঁতি বসানো অবস্থায় দেখা গেছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা বলেন, সোঁতিজাল উচ্ছেদে মাঝে মাঝেই অভিযান চালানো হয়। তবে উচ্ছেদের পরপরই সংশ্লিষ্টরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। জড়িতরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের আটক বা মামলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযানের ওপর নির্ভর করলে হবে না, স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে। শুরুতেই স্থানীয়রা প্রশাসনকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, নদীতে ব্যাপকভাবে সোঁতিজাল পাতা হয়েছে। এক-দুই দিনে সব অপসারণ করা সম্ভব নয়। তবে গুরুদাসপুরের মৎস্য অফিসকে দ্রুত সোঁতিজাল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: