রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে জন্মমাটির টানে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান তিনি। দুই দিনের এই সফরে মা-বাবার কবর জিয়ারত, নিজ বাসভবনে স্বজন-স্থানীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা। পরে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
সফরের শুরুতেই পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। এরপর শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতে যাবেন তিনি। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে দেওয়া সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।
সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। রাতে তিনি নিজ বাসভবনেই অবস্থান করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
এরপর ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বাসভবনে ফিরে খাবার ও বিশ্রাম নেবেন তিনি। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঠাকুরগাঁও স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান ও রাষ্ট্রপতির বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।