তারাগঞ্জে ৩৫ বছরের জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

সারাদেশ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর, সাইলবাড়ি ও ডাংগাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সরমংলা নদী। নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের

2026-09-06T13:33:13+00:00
2026-09-06T13:33:13+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
তারাগঞ্জে ৩৫ বছরের জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার
তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর, সাইলবাড়ি ও ডাংগাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সরমংলা নদী। নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটির রেলিং ভেঙে গেছে, পিলারের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। মাঝখানের স্ল্যাবও দুর্বল হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুই আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ভীমপুর সাইলবাড়ি দাওরায়ে হাদিস মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র পথ।

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হন আশপাশের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলচালকদের আতঙ্ক নিয়েই সেতুটি পার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশে নিরাপত্তা রেলিংয়ের প্রায় কোনো অস্তিত্ব নেই। কোথাও রেলিং ভেঙে পড়ে আছে, আবার কোথাও পুরোপুরি উধাও। সেতুর বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ও স্ল্যাব ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পিলারের সিমেন্ট ও পলেস্তারা খসে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যানবাহন চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার রহিম ও মহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল মেলেনি। কয়েক দিন আগে একটি যাত্রীবাহী ভ্যান সেতু থেকে নিচের খালে পড়ে গিয়ে চালক ও যাত্রী গুরুতর আহত হন। এর আগেও কয়েকজন শিক্ষার্থী সাইকেলসহ সেতু থেকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। রাতের বেলায় সেতুটি পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও দাওরায়ে হাদিস মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। আশপাশের ১০ গ্রামের কৃষকেরা ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাট-বাজারে নিতে পারছেন না। ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ঝুঁকির কারণে ভ্যান ও অটোরিকশাও সেতুটি পার হতে চায় না। ফলে কৃষকদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন খরচ।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: