রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।
শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ ও শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে পুতিন মার্কিন দুই প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সহজ নয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জন্য শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা পৌঁছে দিতে তাঁদের অনুরোধ করেন তিনি।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কুশনার ও উইটকফকে একটি যুদ্ধ অবসানের প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় পাঠানো হয়েছে।
মস্কো সফরের পর রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন দুই দূতের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কুশনার ও উইটকফের জন্য এটি হবে ইউক্রেনে প্রথম সফর।
এরই মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির একটি উদ্যোগ সামনে এসেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে তিন দিন কিয়েভে হামলা চালাবে না রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
জবাবে জেলেনস্কিও মস্কোয় হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবারের বাকি সময়ের পাশাপাশি রোববার ও সোমবার ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানীতে হামলা চালাবে না।
তবে শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধের ময়দানেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠসহ বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পূর্ব ইউক্রেনের দখল না হওয়া এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্য মস্কোর রয়েছে বলে পুতিন একাধিকবার জানিয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনের আকাশসীমা যুদ্ধের কারণে ২০২২ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেশটিতে যাতায়াতে সাধারণত ট্রেন ব্যবহার করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে কুশনার ও উইটকফের কিয়েভ সফরও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার কিয়েভে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মার্কিন দুই দূতের। তাঁদের সফরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।