ভয়াবহ পাহাড়ি বন্যার ১০ দিন পর নেপালে ধ্বংসস্তূপ ও সুড়ঙ্গ থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুজনের একজন চীনের নাগরিক এবং অন্যজন ৬৪ বছর বয়সী নেপালি নারী।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে নেপালি সেনাবাহিনী। বন্যার পর থেকে তিনি ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা ছিলেন।
নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বাসনেত জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারের পর ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নুওয়াকোটের ত্রিশুলিতে সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা চারতলা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যার পানিতে বাড়িটি ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে তিনি সেখানে আটকা পড়েন। সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে নেপালি সেনাবাহিনীর ১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের নয় সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ভয়াবহ বন্যার ১১তম দিনে এই দুই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় রাসুয়া এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নতুন করে কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেখানে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ওই স্থানে আর কোনো জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুড়ঙ্গ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। নতুন আশায় উদ্ধারকারীরা টানেলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন অংশ খুঁজে দেখা হয়। তবে সেখানে কাদা, মাটি, পলিমাটি ও বড় বড় পাথর ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি বন্যার পর ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ পর্যটক।