প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে এবং পণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট তথ্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এ দাবিকে জনপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘শালুকডাঙার কথা’ শীর্ষক পথনাটক পরিবেশন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ।
শনিবার বিকেলে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় এ পথনাটক পরিবেশিত হয়।
নাটকে প্যাকেটজাত খাবারের আকর্ষণীয় মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের প্রভাব, শিশু-কিশোর ও তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরা হয়।
‘শালুকডাঙার কথা’ নাটকের মাধ্যমে দেখানো হয়, বাজার থেকে প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় অনেক ভোক্তার পক্ষেই পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সহজে বোঝা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় প্যাকেটের সামনের অংশে (ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বা এফওপিএল) সহজ, স্পষ্ট ও দৃশ্যমান সতর্কবার্তা থাকলে অল্প সময়েই পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, এফওপিএলের উদ্দেশ্য কোনো খাবার নিষিদ্ধ করা নয়। বরং এর মাধ্যমে ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
তিনি বলেন, কোনো পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ থাকলে ভোক্তারা নিজেদের ও পরিবারের জন্য আরও সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, যেকোনো সামাজিক উদ্যোগ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তরুণরা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নিরাপদ খাবারের এই আন্দোলনেও তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এ বার্তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
আয়োজকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘শালুকডাঙার কথা’ নাটকের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্যাকেটজাত খাদ্য এবং ভোক্তার তথ্য জানার অধিকারকে তরুণদের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মনে করে, প্যাকেটজাত খাবারে এফওপিএল বাস্তবায়ন শুধু একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তার অধিকার সুরক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তরুণ সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যকর্মী, নাগরিক সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে।
পথনাটকের মাধ্যমে তরুণদের কণ্ঠে এফওপিএল বাস্তবায়ন, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের আশা, সংস্কৃতিকে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ নীতিনির্ধারকদের কাছে জনদাবিকে আরও দৃশ্যমান ও শক্তিশালী করবে।