একটি শয্যার আশায় স্ট্রেচারে শুয়ে তিন দিন! রাজধানীর জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এমনই দুর্ভোগে পড়েছেন ৫০ বছর বয়সী সাজেদা বেগম। মেরুদণ্ডের সমস্যায় দাঁড়াতেই পারেন না তিনি। অথচ স্বজনদের প্রতিদিনই শুনতে হচ্ছে একই কথা—‘সিট খালি নাই, সিরিয়ালে থাকেন।’ সাজেদার মতো শত শত রোগীর অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না।
সাজেদার মতো শত শত রোগী ও স্বজনের ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে হাসপাতালটিতে। কেউ স্ট্রেচারে, কেউ হাসপাতালের বারান্দায়, আবার কেউ সড়কের পাশে অপেক্ষা করছেন একটি শয্যার আশায়। দূর-দূরান্ত থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে এলেও শয্যা সংকটে অনেককেই ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন।
বর্তমানে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী আসে প্রায় দুই হাজার। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত ৫০০ শয্যার নতুন ভবনও উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভবনের বেশির ভাগ অংশ এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাধারণ ওয়ার্ড চালু করতে এখনো প্রায় ২০০ চিকিৎসক এবং ২০০ নার্স ও আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন ভবনের সাধারণ ওয়ার্ডগুলো চালু করা সম্ভব হবে।
এদিকে শুধু ভর্তি নয়, বহির্বিভাগের রোগীরাও নানা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। চিকিৎসকের সময়সূচি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের সিরিয়ালের জন্যও রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান জানান, নতুন ভবনে ইতোমধ্যে বহির্বিভাগের সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ বেড ও ওয়ার্ড চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কাজ এখনো বাকি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও শয্যার সংকট ও জনবল ঘাটতির কারণে রোগীদের এই ভোগান্তি কবে কমবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।