ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বন্দর দিয়ে দুই দেশের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল শুরু করে।
তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল।
তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় হিলি স্থলবন্দর পিছিয়ে পড়ায় সেখানকার ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে গত ছয় দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল।
পরে ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস পাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। এরপর শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বন্দর দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম শুরুর পর বাংলাদেশ থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে ভারত থেকেও বিভিন্ন পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বন্দরে পণ্য খালাসের পর দেশীয় পরিবহনযোগে সেগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি। শনিবারও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছয় দিন পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরলে ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তাও কাটবে বলে আশা করছেন তারা।