ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে এক কৃষকের আমন ধানক্ষেতে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ধানগাছের চারা ভেঙে ফেলারও অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কোঠাপাড়া গ্রামে কৃষক নরেশ চন্দ্র রায় ও তার ভাই গোপাল রায়ের ধানক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পৈতৃক জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলেন নরেশ চন্দ্র রায় ও তার ভাই। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় ফলন নিয়ে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু ক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে সেই প্রত্যাশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার সুকুমার মেম্বারের সঙ্গে নরেশ চন্দ্র রায় ও গোপাল রায়ের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে সুকুমার মেম্বারের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল স্প্রে মেশিন দিয়ে ধানক্ষেতে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরদিন ক্ষেতে গিয়ে কৃষক দেখতে পান, প্রায় এক বিঘা জমির ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু অংশ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা ফসল নষ্টের ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় থানা ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুকুমার মেম্বারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।