বাগেরহাটের চিতলমারীতে নদীর পানির চাপ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামরক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় আগামী অমাবস্যার জোয়ারে বাঁধ ভেঙে প্লাবনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, গত পূর্ণিমার জোয়ারে গোদাড়া পার্ক, খড়িয়া স্কুলের পাশের রাস্তা, ঝালডাঙ্গা গুচ্ছগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি বিল ও আশপাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে মৎস্য খামারগুলো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, সুরিগাতী, রায়গ্রাম, খিলিগাতী, ডুমুরিয়া, পার ডুমুরিয়া, ঝালডাঙ্গা, আরুলিয়া ও খড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এসব বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাঝখানে থাকা প্রায় ১২টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষসহ বিপুল মৎস্যসম্পদ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুলেশ ঢালী বলেন, নদীর তলদেশ ভরাট ও নদীশাসনের কারণে কয়েকটি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে আগামী অমাবস্যার জোয়ারে গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন বলেন, এবার পানির চাপ বেশি হওয়ায় বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি উপচে পড়ছে এবং কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত মূল বেড়িবাঁধ ও গ্রামরক্ষা বাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদীজা আক্তার জানান, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিরাজ জানান, দ্রুত বাঁধটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।