স্কুল যেন ভুতের বাড়ি

বগুড়া জেলা সংবাদদাতা

সারাদেশ

ধসে গেছে বিদ্যালয়ের পুরোনো শ্রেণিকক্ষের দেয়াল। খসে পড়ছে পলেস্তারা, নড়বড়ে হয়ে পড়েছে জানালা-দরজার অবস্থাও। বৃষ্টি হলেই মরিচা ধরা টিনের চাল

2026-09-03T14:00:32+00:00
2026-09-03T14:00:32+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
স্কুল যেন ভুতের বাড়ি
বগুড়ার সোনাতলার করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা
বগুড়া জেলা সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০০ পিএম 
বগুড়ার সোনাতলার করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ। ধসে পড়েছে দেয়াল, খসে পড়ছে পলেস্তারা।
ধসে গেছে বিদ্যালয়ের পুরোনো শ্রেণিকক্ষের দেয়াল। খসে পড়ছে পলেস্তারা, নড়বড়ে হয়ে পড়েছে জানালা-দরজার অবস্থাও। বৃষ্টি হলেই মরিচা ধরা টিনের চাল চুইয়ে পানি পড়ে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় মেঝে। সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। ভেঙে পড়া দেয়াল ঘেঁষে জন্মেছে লতাগুল্ম ও আগাছা। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টি যেন পরিত্যক্ত কোনো ‘ভুতের বাড়ি’। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলেও সেখানে চলছে নিয়মিত পাঠদান।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসির বদলে দেখা দিয়েছে আতঙ্কের ছাপ। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ সংকট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্প্রতি ঝড়ে বিদ্যালয়ের একটি দেয়াল ধসে পড়লেও আজও সেটি সংস্কার করা হয়নি। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেই কোনো টিউবওয়েল। প্রতিদিন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ আর চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে একঝাঁক শিশু বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু জরাজীর্ণ ভবনের কারণে তাদের সেই স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে নিয়মিত পাঠদান। বিভিন্ন স্থানে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় পুরো শ্রেণিকক্ষ ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা জানান, সোনাতলা উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর বেহাল দশা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তারা আরও জানান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। সংস্কারের অভাবে পুরোনো ভবনগুলো পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ হারিয়েছে। ফলে নানা সমস্যায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম। দ্রুত পুরোনো শ্রেণিকক্ষ সংস্কার এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাসে টিউবওয়েল না থাকায় তারা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়। একটি শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মনে করে।

এলাকার শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম, আইয়ুব হোসেন নান্টু, ফসি উদ্দিন ও তোজাম্মেল হক বলেন, করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। সম্প্রতি ঝড়ে ধসে যাওয়া একটি ভবন অর্থ সংকটের কারণে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতি আরা পারভীন জানান, বিদ্যালয়টির পড়ালেখার মান ও পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: