তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সারাদেশ

নীলফামারীর ডিমলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে তিস্তা নদী থেকে বেপরোয়াভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। টাস্কফোর্সের যৌথ

2026-09-01T19:46:53+00:00
2026-09-01T19:48:39+00:00
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান
ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম  আপডেট: ০১.০৯.২০২৬ ৭:৪৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর ডিমলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে তিস্তা নদী থেকে বেপরোয়াভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬টি ইঞ্জিনচালিত স্টিলের বড় নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি বড় আকারের বোমা মেশিনসহ পাথর উত্তোলনের বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা সরঞ্জাম বিজিবির বার্নির ঘাট সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি)-এর হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে দুই শতাধিক শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। উত্তোলিত পাথর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীতীরের বিভিন্ন এলাকায় এনে মজুত করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও পানিপ্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনও তীব্র হচ্ছে। ঝুঁকিতে পড়ছে তিস্তাপাড়ের জনপদ ও মানুষের বসতভিটা।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, নদী থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে তিস্তার তলদেশের স্বাভাবিক গঠন বদলে যাচ্ছে। পানির গতিপথেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নদীভাঙনের নতুন ঝুঁকি। ইতোমধ্যে ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিস্তায় দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই ফের শুরু হয় পাথর উত্তোলন। সম্প্রতি এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক করতোয়ায় তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন নিয়ে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান। তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার, জেলা পুলিশ, ডিমলা থানা-পুলিশ এবং রংপুর ৫১ বিজিবির অধিনায়ক জুলকারনাইন। সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডারসহ প্রায় ৮০ জন সদস্য অভিযানে অংশ নেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তায় পাথর উত্তোলন বন্ধে গঠিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। বড় আকারে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, শুধু নৌকা ও বোমা মেশিন ধ্বংস করলেই অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ হবে না। এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও পাথর মজুত-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: