বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বৃষ্টির পানিতে পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা এবং কাঁচা সড়ক তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কে কাদা জমে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমেছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, নিচু এলাকার ফসলি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে পুকুর ও চিংড়ি ঘেরে পানি ঢুকে মাছ ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় অনেক এলাকার বসতবাড়ির উঠান ও রান্নাঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে গৃহস্থালি কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী ও শিশুরা।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় শিবসা ও কপোতাক্ষ নদে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এতে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে জোয়ারের পানি—দুইয়ে মিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।