পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার বিএনপি-সংশ্লিষ্ট নেতা সাদ্দাম হাওলাদার। সৌদি আরবে অবস্থানরত এই নেতা সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে কাবা শরীফের সামনে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করে এ ঘোষণা দেন।
ভিডিও বার্তায় সাদ্দাম হাওলাদার বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের কথা জানান। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম জানান, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনিও দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জাতীয় উপনির্বাচন কমিটির সাবেক সদস্য এবং ৪ নম্বর মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর রাজনীতি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিএনপি কিংবা দলের কোনো নেতার প্রতি তার ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সাদ্দাম হাওলাদার তার পোস্টে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথাও জানান।
তিনি বলেন, সম্মানের সঙ্গে এবং সম্পূর্ণ সচেতনভাবে তিনি বাংলাদেশের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ৩১ আগস্টের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আর সম্পৃক্ত থাকবেন না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে জেনে বা না জেনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চান সাদ্দাম। রাজনীতির বাইরে থেকেও অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে হঠাৎ করে তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাদ্দাম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, সাদ্দাম হাওলাদারের রাজনীতি ছাড়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূত্রে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও বলেন, কারও সঙ্গে বিরোধ বা ক্ষোভের কারণে সাদ্দাম এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র না দিয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।