আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৩৬ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান শেষে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের বিশেষ তদন্ত নথি অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
অনুসন্ধানে তাঁর স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামেও জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর নামে বা বেনামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।
আরেক ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের নামে পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার সম্পদের অসঙ্গতি।
এ ছাড়া শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে শেখ সেলিম ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাতেমা সেলিম, শেখ ফজলে ফাহিম, শেখ ফজলে নাঈম ও শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়াকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে।
তাদের নামে কিংবা বেনামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেই সম্পদ বিবরণী চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল পুরো বিষয়টি তদন্ত করেছে। উপপরিচালক মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিতে সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মাদ অনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুসন্ধান শেষে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।