কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ক্যান্টিনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এরই মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) নামে এক ক্যান্টিনবয়কে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, ৪৪ বছর বয়সী ওই নারী ঢাকায় থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে ট্রেনের যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে ক্যান্টিনবয় আবু বক্করকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তারা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে যাওয়া হয় সান্তাহার রেলওয়ে থানায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে দুজনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রেলওয়ে পুলিশের এসপি (পাকশি) মেহেদী হাসান জানান, ট্রেনটি নাটোর অতিক্রম করার সময় ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে তার ছেলেকে ঘটনাটি জানান। পরে তার ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, পুলিশ পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে ওই নারী ও আটক ব্যক্তিকে নিয়ে আসে। পরে আবু বক্করকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের দাবি, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আবু বক্কর একাই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টিজি পার্টির ইনচার্জসহ সব সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের এসপি।
অন্যদিকে, বগুড়া জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অন্য দুই আসামির পরিচয় ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।