রায়গঞ্জে ১৩৭ চালকলের নামে ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বরাদ্দ, এক মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা

সারাদেশ

অস্তিত্বহীন ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চালকলের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আলোচিত প্রায় ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ

2026-09-01T14:54:12+00:00
2026-09-01T14:54:12+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
রায়গঞ্জে ১৩৭ চালকলের নামে ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বরাদ্দ, এক মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
অস্তিত্বহীন ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চালকলের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আলোচিত প্রায় ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার অনিয়মের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এক মাস আগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত জমা পড়েনি চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

এরই মধ্যে সার পরিস্থিতি তদারকির ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তদন্ত শেষ করতে আরও ১৫ কর্মদিবস সময় চেয়ে আবেদন করেছে তদন্ত কমিটি। এতে এত বড় অঙ্কের সরকারি চাল বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলার ১৩৭টি চালকলের নামে প্রায় ১২ হাজার টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি মিলের অস্তিত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে খাদ্য বিভাগ পাঁচটি মিলের প্রায় ৪০০ টন চাল সরবরাহের বরাদ্দ স্থগিত করে।

তবে অভিযোগ ওঠার পরও বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেসব চালকল দীর্ঘদিন বন্ধ কিংবা বাস্তবে অস্তিত্বহীন বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে সচল দেখিয়ে কীভাবে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলো? বরাদ্দ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মিলগুলোর সক্ষমতা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের রক্ষা করার সুযোগ পেতে পারেন।

এদিকে তদন্তের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, কোনো চালকল পরিদর্শনের সময় একদিন খোলা পাওয়া গেলেই সেটিকে নিয়মিত উৎপাদনশীল মিল হিসেবে ধরে নেওয়া যথেষ্ট নয়। মিলের প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ধান কেনার হিসাব, চাল বিক্রির নথি, ব্যাংক লেনদেন, মজুতের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সোহাগ হোসেনকে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির ভয় দেখিয়ে একটি মীমাংসা বৈঠকের মাধ্যমে আপস করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, সার মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালনের কারণে তদন্তের কাজে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য আরও ১৫ কর্মদিবস সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটির দিনে খাদ্য অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল রায়গঞ্জে গিয়ে অধিকাংশ মিল চালু অবস্থায় দেখতে পেয়েছে।

তবে ওই সময় মিলগুলোতে বাস্তবে চাল উৎপাদন হচ্ছিল কি না, তা যাচাইয়ে বিদ্যুৎ বিল, ধান কেনার রসিদ, চাল বিক্রির হিসাবসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তদন্তে কিছুটা সময় লাগছে। তবে তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না। নিরপেক্ষভাবেই বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে অস্তিত্বহীন ও বন্ধ মিলের নামে সরকারি চাল বরাদ্দের নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা প্রকাশ করতে হবে। শুধু মিল পরিদর্শনের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে চাল সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আরও দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মিল মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ ও খাদ্যশস্যের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: