
নেপাল ও তিব্বতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে সহমর্মিতা জানিয়ে চট্টগ্রামে প্রদীপ প্রজ্বালন, সমবেত প্রার্থনা ও ধ্যান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রতিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন এলাকার চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কাউন্সিলের উদ্যোগে এই সহমর্মিতা ও শান্তি কামনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সূত্রপাঠ ও মুখ্য আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের আবাসিক প্রধান ভিক্ষু প্রিয়রত্ন মহাথের। সূত্রপাঠে বিহারের ভিক্ষু সংঘের সদস্যরা অংশ নেন।
সমবেত প্রার্থনা শেষে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কাউন্সিলের সভাপতি স্থপতি বিজয় তালুকদারের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মুখ্য আলোচক প্রিয়রত্ন মহাথের বলেন, ‘সকল সংস্কার অনিত্য। প্রাণীজগতের টিকে থাকার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। আর মানুষের পক্ষেই প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা কিংবা ধ্বংস করা সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে এ বিষয়ে সবার ইতিবাচক আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
আলোচনায় প্রিয়বোধি ভিক্ষু বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে হিমবাহের বরফ গলে যাওয়া থেকে শুরু করে ভূমিধস, অনাবৃষ্টি ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে কোনো না কোনোভাবে মানুষের কর্মকাণ্ড দায়ী। মানুষের সৃষ্ট কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আলোচনায় বিহারের অন্যান্য ভিক্ষুরাও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কাউন্সিলের সদস্য এবং বিহারের দায়ক-দায়িকাদের উপস্থিতিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এ সময় নেপাল ও তিব্বতে দুর্যোগে নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মঙ্গল ও শান্তি কামনা করা হয়।