
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত সমাধিস্থলে যান তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সমাধিতে পৌঁছে তারেক রহমান প্রথমে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর সমাধিস্থলের আশপাশে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মিছিল ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জিয়া উদ্যানের সমাধি প্রাঙ্গণ।
এ সময় নেতা-কর্মীদের ‘শুভ শুভ শুভ দিন, বিএনপির জন্মদিন’ এবং ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও আলোচনা সভা, সমাবেশ এবং অন্যান্য দলীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এবারের আয়োজন তাই রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবারই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন তাঁদের জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান।
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্ব আরও সরাসরি তারেক রহমানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা ও মায়ের সমাধিতে তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদন দলীয় কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে পালিত হলো।