শহর-গ্রামে সমানভাবে লোডশেডিং, দ্রুত সংকট কাটার আশ্বাস তথ্য উপদেষ্টার

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা.

2026-09-01T12:50:01+00:00
2026-09-01T12:50:01+00:00
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
শহর-গ্রামে সমানভাবে লোডশেডিং, দ্রুত সংকট কাটার আশ্বাস তথ্য উপদেষ্টার
ভোরের ডাক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম 
শহর-গ্রামে সমানভাবে লোডশেডিং, দ্রুত সংকট কাটার আশ্বাস তথ্য উপদেষ্টার
দেশে চলমান লোডশেডিং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বিদ্যুৎ সংকটের চাপ শুধু গ্রামাঞ্চলের ওপর না দিয়ে শহর ও গ্রামের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য রেখে বণ্টন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, অতীতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং করা হতো। বর্তমান সরকার এ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রভাব শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই ভাগ করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতেও লোডশেডিং বেড়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যনির্ভর বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। তবে মানুষের সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে শহরে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নীতি নেই।

অতীতের লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ : আগের সরকারের সময় এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে সে সময়ে কতটা লোডশেডিং হয়েছে তার তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, কোন সময়ে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল এবং কোন কোন অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি পড়েছিল—এসব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার ওপর অতীতে লোডশেডিংয়ের তুলনামূলক বেশি চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হবে।

আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

একাধিক কারণে বিদ্যুৎ সংকট : বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। এর মধ্যে জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, বিভিন্ন কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণত মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম তুলনামূলক ধীর থাকায় বিদ্যুতের চাহিদাও কম ছিল। বর্তমানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি সাময়িক সংকট। এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই ভোগান্তি চলবে না। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সরকার আশাবাদী।

লালদিয়া টার্মিনালে বাড়বে বন্দরের সক্ষমতা : প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি জানান, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও গতিশীল করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া এলাকায় নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকল্প এলাকায় টার্মিনালটির গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশে সারের সংকট নেই : দেশের সার পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সার্বিক সংকট নেই। তবে কিছু এলাকায় সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সরকার বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: