পদ্মার পানি বাড়ছে, বাঘায় ১৫ চরে প্লাবনের শঙ্কা; আতঙ্কে হাজারো মানুষ

বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

সারাদেশ

উজান থেকে নেমে আসা পানিতে রাজশাহীর বাঘায় বাড়ছে পদ্মার পানি। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের পাকা সড়ক ডুবে পানি ঢুকতে শুরু করেছে

2026-08-31T20:41:41+00:00
2026-08-31T20:41:41+00:00
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পদ্মার পানি বাড়ছে, বাঘায় ১৫ চরে প্লাবনের শঙ্কা; আতঙ্কে হাজারো মানুষ
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম 
পদ্মার পানি বাড়তেই পাকা সড়ক ডুবে লোকালয়ে ঢুকছে পানি।
উজান থেকে নেমে আসা পানিতে রাজশাহীর বাঘায় বাড়ছে পদ্মার পানি। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের পাকা সড়ক ডুবে পানি ঢুকতে শুরু করেছে লোকালয়ে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। এতে পদ্মার চরে থাকা ১৫টি গ্রামের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে চকরাজাপুর-খয়েরহাট খেয়াঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাবিত হয়ে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।

পদ্মার চরে অবস্থিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশিফতেপুর, দাদপুর, চকরাজাপুর, কালিদাসখালীসহ ১৫টি চরের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন চরবাসী।

চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই পদ্মার পানি বাড়ছে। বর্তমানে পাকা সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং কোথাও হাঁটুসমান পানি জমেছে। ঝুঁকি নিয়েই মানুষ ওই পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন।

চরাঞ্চলের কলেজশিক্ষার্থী আমিন ফয়সাল ও শুকতারা খাতুন বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই তাদের বসবাস করতে হয়। পদ্মার পানি বাড়ায় এবারও তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঘা উপজেলার পদ্মায় থাকা ১৫টি চরের অধিকাংশ বাসিন্দাই ভূমিহীন ও খেটে খাওয়া মানুষ। শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ এবং বর্ষাকালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকেও এসব চরাঞ্চল অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডিএম মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ান বলেন, গত কয়েক বছরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় এক হাজার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, বিজিবি ক্যাম্পসহ হাজার হাজার বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে গৃহহারা হয়েছেন বহু পরিবার।

তিনি আরও বলেন, পদ্মার মধ্যে থাকা ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন গঠিত। প্রতিবছর বর্ষায় নদীর পানি বাড়লেই চরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এবারও পানি বাড়তে থাকায় প্লাবনের পাশাপাশি নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পানি আরও বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রক্ষা এবং চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্লাবন মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: