চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশে একটি বাসায় ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরের চাঁন্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, পাঁচলাইশের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের হাদু মাঝির পাড়ার মো. রবি (২৮), একই এলাকার সফি আহমেদের ছেলে আলাল আহমদ পারভেজ (২৮) এবং মৃত ইউনুছের ছেলে মো. ফয়সাল (২৫)।
পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, চাঁন্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল কবিরের (৪২) সঙ্গে আসামিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল। এ নিয়ে বাদী ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা (৩০) আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একাধিক মামলা করেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ করা হয়, এসব মামলায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নুরুল কবিরের অনুপস্থিতিতে আসামিরা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশের হাদু মাঝির পাড়ার অজিফা ম্যানশনে যান।
তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার পাশাপাশি সামনের দুই পাশের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ভাঙচুরের শব্দ শুনে নুরুল কবিরের স্ত্রী বাসা থেকে বের হয়ে নিচে নামতে গেলে আসামিরা জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা পূর্বের মামলাগুলো তুলে নিতে চাপ দেয় এবং অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, নুরুল কবিরকে না পেয়ে আসামিরা তার স্ত্রীকে মারধরের জন্য তেড়ে আসে। প্রাণভয়ে এবং সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি বাথরুমে আশ্রয় নেন।
পরে বাথরুম থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, বাসার আলমারিতে রাখা মিনি ট্রাক বিক্রির ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ ও একটি ফ্যাশন সাপ্লাইয়ার মেশিন নেই।
এ ছাড়া আলমারিতে থাকা তার ব্যবহৃত ৪ ভরি স্বর্ণালংকার—এক ভরি ওজনের গলার চেইন, এক ভরি ওজনের এক জোড়া কানের দুল এবং দুই ভরি ওজনের এক জোড়া চুড়ি—নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও লুট করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন বাদীর স্ত্রী। খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে।
মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই সাজ্জাদ হোসেন। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে চাঁন্দগাঁও থানাধীন নিজ বাসা থেকে মামলার আসামি রবিউল হাসান রবিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, রবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে পাঁচলাইশের হাদু মাঝির পাড়া এলাকা থেকে পারভেজ আহমদ জালাকে এবং রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাঝির দোকান এলাকা থেকে মো. ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।