হরমুজ প্রণালিতে ফের বিস্ফোরণের ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে দুটি সামুদ্রিক মাইনে আঘাতের পর একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ট্যাংকারটি ইরানের নির্ধারিত নৌপথ ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তখনই জাহাজটি দুটি মাইনে আঘাত করে। বিস্ফোরণের পর ট্যাংকারটি অচল হয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা ট্যাংকারটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কত—তা এখনো স্পষ্ট করেনি ইরান।
আইআরজিসি হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে তেহরানের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরানের আরেক দাবি। আইআরজিসির ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা বলে দাবি করা হয়েছে।
এর জবাবেও পাল্টা হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন কিং হুসেইন ও আল আজরাক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
হরমুজে মাইনে বিস্ফোরণ, আকাশে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি, ইরানে মার্কিন হামলা এবং জর্ডানে পাল্টা আঘাত—একসঙ্গে এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আইআরজিসি, আইআরআইবি ও অ্যাক্সিওস