ভারতের উত্তর প্রদেশে একটি আতশবাজির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে প্রয়াগরাজ-কৌশাম্বী সীমান্তবর্তী কৌশাম্বী জেলার মহম্মদপুর এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মানুরি বিমানঘাঁটির দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার।
স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় কারখানাটিতে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো কারখানাটি আগুনে পুড়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ধসে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, কারখানার ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা অন্তত সাতটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আরও প্রায় ৭০ মিটার দূরের কয়েকটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পাশাপাশি কাছের বিমানঘাঁটি থেকেও সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
এক কিশোরী, যে বিস্ফোরণের সময় বাড়িতে ছিল, জানায়, ঘটনার সময় তার সঙ্গে মা ও ছোট ভাইও ছিল। বিস্ফোরণের পর সে কোনোভাবে বের হতে পারলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আতশবাজি তৈরির সময় কোনো কারণে বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারখানাটির মালিকের নাম আদিল বলে জানা গেছে।
কারখানাটিতে সরকারি অনুমোদন ছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।