ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের, রংপুরের চার খুনের তদন্তে নতুন প্রশ্ন

রংপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

রংপুরের আলোচিত চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক

2026-08-31T16:46:21+00:00
2026-08-31T16:46:21+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের, রংপুরের চার খুনের তদন্তে নতুন প্রশ্ন
রংপুর সংবাদদাতা
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রংপুরের আলোচিত চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এতে হত্যাকাণ্ডের আগে তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন, পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সেই দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ডোপ টেস্টের ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তের অংশ হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্ট করা হয়। কারাগারে গিয়ে টেকনোলজিস্টের উপস্থিতিতে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফলে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ জানান, ডোপ টেস্টের জন্য দুই আসামির ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হলে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দাবি করেছিল, তারা ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখান থেকেই চার হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এখন ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ আসায় ওই দাবির বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

তবে ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ডোপ টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে পুরো মামলার তদন্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তদন্তে আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য, ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ায় মামলাটি নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলা কোন দিকে দাঁড়াচ্ছে, সেটা আমরা বলতে পারব না। তবে তাদের যে নমুনা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ফলে চার খুনের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে মাদক সেবনকে ঘিরে যে দাবি সামনে এসেছিল, ডোপ টেস্টের ফলাফলে তা কতটা প্রাসঙ্গিক—এখন সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: