বাংলাদেশের উন্নয়নকর্মী ও ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান অর্জন করেছেন এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার। দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ২০২৬ সালের এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এক অনুষ্ঠানে র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন চলতি বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে। প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়।
এ বছর রুনা খানের পাশাপাশি আরও দুজন এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ এবং মিয়ানমারের বো চি।
২০০২ সালে রুনা খান সামাজিক উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডশিপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটি দেশের দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।
দারিদ্র্য, বৈষম্য ও জলবায়ুজনিত নানা সংকটে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে ‘ফ্রেন্ডশিপ’।
পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের র্যামন ম্যাগসাইসাই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হবে।
র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের স্মৃতি ও মানবসেবার আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন। পরের বছর, ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। এশিয়ায় সমাজসেবা, নেতৃত্ব ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে।