দেশের খাদ্যগুদামগুলোকে ঘিরে থাকা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা খাদ্যগুদাম আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, সরকারি খাদ্য কর্মসূচিতে নির্ধারিত মূল্য ও প্রকৃত সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছানো অর্থের মধ্যে কোনো ধরনের অনৈতিক ব্যবধান তৈরি হলে তার সুবিধা কোনোভাবেই মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটকে নিতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্যগুদামগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে কি না এবং সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলার খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করা হবে।
মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে সংরক্ষিত ধান, গম ও আটার মান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। দেশের অন্যান্য জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যশস্যের মজুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্যোগ বা আকস্মিক কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় খাদ্যশস্যের মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে এবং বর্তমানে কোনো জেলায় খাদ্য সংকট নেই।
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সরকারি মজুত থেকে ধান, চাল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে জনগণের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব।
খাদ্যগুদামে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা খাদ্যশস্যের মান নিয়ে কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, খাদ্যগুদাম পরিচালনা ও খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি অনিয়মে জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আফরোজা খানম রিতা বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সাটুরিয়া খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।