সরকার, বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সম্মিলিত অংশীদারত্বে দেশে একটি সৃজনশীল অর্থনীতি ও নতুন অর্থনৈতিক মডেল চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই যৌথ অংশীদারত্ব কেবল বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এটি একটি স্থায়ী রূপ পেতে যাচ্ছে।
রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বাংলাদেশে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণে অতীতে নানা ধরনের অপচয় ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অতীতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার প্রথম সারির সাহায্যকারী হিসেবে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করেছে। সরকারের সম্পদের সঙ্গে তাদের সম্পদ যুক্ত করে সার্বিক পুনর্বাসন কাজ পরিচালনা করায় দুর্নীতি ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই পাইলট প্রজেক্টে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি বা ভুল পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত নগণ্য এবং এটি একটি সফল বাস্তবায়ন। এখানে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও করা হবে না। এই দক্ষ ডেলিভারি সিস্টেম একদিকে যেমন তদারকি নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে সরকারি খাতের অপচয় পুরোপুরি বন্ধ করতে সাহায্য করছে। ব্র্যাকসহ অন্যান্য সংস্থাও এই কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।