হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর ভারতীয় চোরাকারবারিদের ছোড়া ছররা গুলিতে সোহাগ মিয়া (১৭) নামে এক বাংলাদেশি কিশোর নিহত হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, দুপুর ১টার দিকে চুনারুঘাটের চিমটিবিল সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি শূন্যরেখা অতিক্রম করে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গরু আনা।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে যাওয়ার পর বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা ছররা গুলি ছুড়লে সোহাগ মিয়া গুরুতর আহত হন।
পরে তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চুনারুঘাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগ মিয়া চুনারুঘাট উপজেলার শফিক মিয়ার ছেলে।
বিজিবি আরও দাবি করেছে, নিহতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চিমটিবিল বিওপির টহলদল ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জানানো হয়। বিএসএফ বিজিবিকে জানিয়েছে, তাদের এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে বিওপি পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান করেছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার বিকেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আগে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে বিজিবি। বাহিনীটির পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত তথ্য হিসেবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্যকে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়েছে।