বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের সায়েদ আলীর ছেলে মো. মাসুদ (৩৫) এবং সোনাতলা উপজেলার চক সৈয়দপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. হৃদয় (৩০)।
র্যাব-১২ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার (সহকারী পুলিশ সুপার) হান্নান হাওলাদার রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদীপুর এলাকা থেকে মাসুদকে এবং গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকা থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তারা আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন। একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার সূত্রে মামলার এক আসামির সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আসামি ওই নারীর মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে যান। পরে সেটি ফেরত নিতে তিনি আসামির বাড়িতে গেলে সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে একটি ফাঁকা ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এ সময় গোপনে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী নারী বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের শরণাপন্ন হন। বিচারকের নির্দেশে গত ২২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলার পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।