গ্যাস সংকটের অজুহাতে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে। চিনি ও সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যাবসায়ীরা। ফলে বেড়েছে চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম।
পাশাপাশি বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। অপরদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া ডিম, পেঁয়াজ ও মাংসও ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সামগ্রিক নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না।
রাজধানী ও চট্টগ্রামের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। রাজধানীতে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দুই সপ্তাহ আগে প্রতি মণ চিনি ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা, এখন তা ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, গ্যাস সংকটের কথা বলে মিলগুলো চাহিদা অনুযায়ী চিনি সরবরাহ করছে না। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা চলছে। একই অভিযোগ উঠেছে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও। সরকারি দামে পরিবর্তন না এলেও খোলা সয়াবিন তেল এখন লিটারপ্রতি ১৮৫ থেকে ১৯২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাজারে পণ্য থাকলেও দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ময়দা ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে ময়দার কেজি ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়েই পণ্যটির দামে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটেছে।
ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। এক মাস আগে এক ডজন ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১৪৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিও ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে এটি বাস্তবতা। কিন্তু সেই সংকটকে অজুহাত বানিয়ে সরবরাহ কমানো, মজুদ নিয়ন্ত্রণ বা কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বাজারে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার অভিযোগ, সরকারের একাধিক সংস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এদিকে সবজির বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তেল, চিনি, আটা-ময়দা, ডিম, পেঁয়াজ ও মাংসের বাড়তি দাম সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে।