বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার মারুফ হাসানকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা জামায়াত।
সংগঠনটির দাবি, গ্রেপ্তার মারুফ হাসানের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিংবা দলটির কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জামায়াতের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী নন এবং সংগঠনের কোনো পদ-পদবিতেও নেই।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাদ মাগরিব শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয় আব্দুর রহমান ফকির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জামায়াত নেতা/কর্মী মারুফ হাসান গ্রেপ্তার’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদ তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে মারুফ হাসান জামায়াতে ইসলামীর কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী নন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট রাতে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া এলাকার কালীবাড়ী রোডে একটি ওষুধের দোকান থেকে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মারুফ হাসান বাবুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা তার ব্যক্তিগত অপরাধের দায় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর চাপানো যুক্তিসঙ্গত নয়। মারুফ হাসানের ক্ষেত্রেও জামায়াতের নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা-কর্মী কিংবা সমর্থকের মাদকদ্রব্য বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সংগঠনটি সমর্থন করে না।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শাজাহানপুরে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল, সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অনেকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুধু ছবি কিংবা কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে কাউকে জামায়াতের নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি, অনুমান বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মারুফ হাসানকে জামায়াতের নেতা-কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মোখলেছুর রহমানের সঞ্চালনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের।
এ সময় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি তারেকুল ইসলাম তারেক, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা কাওসার আলী, মাওলানা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, অধ্যাপক গাজিউর রহমানসহ কর্মপরিষদের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।