টানা অনাবৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার আমনক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। পানির অভাবে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় এবার ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
বৃষ্টির অভাবে আমনক্ষেতে প্রয়োজনীয় পরিচর্যাও ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো আগাছা পরিষ্কার, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ করতে পারছেন না অনেক কৃষক। উঁচু জমিগুলো দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সেচ দিচ্ছেন। এতে একদিকে ফসল রক্ষার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ হেক্টর।
শনিবার কুড়িগ্রাম সদর ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিচু জমির কিছু অংশে পানি থাকলেও উঁচু জমিগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটি সাদা হয়ে ফেটে গেছে। পানির অভাবে অনেক জমির ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার যুগির ভিটা গ্রামের কৃষক আলম মিয়া বলেন, ‘আমন ধান লাগানোর উপযুক্ত সময়েই পানির সংকট দেখা দেয়। সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছি। এরপর আর জমিতে পানি দিতে পারিনি।’
রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ঘুমারুভীমশীতলা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন ও আবু তালেব বলেন, পানির অভাবে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেননি তারা। পরে শুকনো জমিতেই সার দিতে হয়েছে। সার গলানোর জন্য এখন সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে।
কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ‘পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ দিলে খরচ বাড়ছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। পানি না থাকায় ধানগাছও ঠিকমতো বাড়ছে না।’
অনাবৃষ্টির পাশাপাশি আমন মৌসুমে সার পাওয়া নিয়েও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে বিএডিসির আওতায় ১১৪ জন এবং বিসিআইসির আওতায় ৯৪ জন সার ডিলার রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ইউনিয়নে বিএডিসির তিনজন ও বিসিআইসির একজন ডিলার থাকার কথা। তবে বাস্তবে কোথাও কোথাও এর ব্যতিক্রম রয়েছে।
আগস্ট মাসে জেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৫ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে এ চাহিদা ৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমনক্ষেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগের সময়সীমা শেষ হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আপাতত সারের কোনো সংকট নেই। বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা আগাম সেপ্টেম্বরের সার উত্তোলন করতে পারবেন।’
তিনি বলেন, পানির অভাবে কৃষকরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। তবে আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানির সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।
তবে বৃষ্টি না হলে উঁচু জমির আমনক্ষেত রক্ষায় কৃষকদের আরও বেশি সেচ দিতে হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।