রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত জাকিরের পরিবারে শোকের মাতম

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সন্তান ও স্বামীকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে চান

2026-08-29T11:38:07+00:00
2026-08-29T11:38:07+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত জাকিরের পরিবারে শোকের মাতম
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি, সরকারের সহযোগিতা চান স্বজনরা
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সন্তান ও স্বামীকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে চান তাঁর স্ত্রী, মা ও স্বজনরা। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জাকির হোসেন নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একমাত্র বড় ছেলে ও স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা।

জাকির হোসেন ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের সেলিম প্রধানের বাড়ির মৃত রতন মিয়ার ছেলে।

নিহতের মা রোকেয়া বেগম, স্ত্রী রিপা বেগম ও এলাকাবাসী জানান, সংসার চালাতে দেশে থাকতে জাকির রিকশা চালাতেন। পাশাপাশি যে কাজ পেতেন, সেটিও করতেন। কিন্তু পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাঁকে। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দেড় বছর আগে জায়গা-জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে রাশিয়ায় যান তিনি।

রাশিয়ায় গিয়েও শুরুতে ভালো অবস্থানে ছিলেন না জাকির। পরে আমুর এলাকায় এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে একটি গ্যাস কমপ্লেক্সে চাকরি নেন। সেখান থেকে যে আয় করতেন, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলছিল। এর মধ্যে চাকরিতে তাঁর পদোন্নতি হলে পরিবারের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়।

কিন্তু সেই আশা শোকে পরিণত হবে, তা কেউ ভাবেনি। প্রায় পাঁচ দিন আগে সিনোপেক কোম্পানিতে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে নিহত হন জাকির হোসেন। দুই দিন আগে তাঁর গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

জাকিরের বাবা প্রায় এক বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে তাঁর মা, স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাসন্তান রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জাকির। তাঁর মৃত্যুতে সংসার কীভাবে চলবে এবং ধারদেনা কীভাবে শোধ হবে- এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্বজনদের।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফুল মিয়া বলেন, ‘জাকির হোসেন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি রিকশা চালাতেন। সংসারে সচ্ছলতা আনতে প্রায় দেড় বছর আগে জমি-জমা বিক্রি ও ধারদেনা করে রাশিয়ায় যান। এখন শুনলাম, সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারকে রাশিয়ার কোম্পানি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের জাকির হোসেন রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে মারা যাওয়ার খবর আমরা জানতে পেরেছি। পরিবারটি অসচ্ছল ও অসহায়। তাঁর স্ত্রী ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। প্রথমে আমরা জাকির হোসেনের মরদেহ কীভাবে দেশে আনা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করছি। এ জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছি। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটিকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: