ডাক্তারের আসনে কার্ডিওগ্রাফার, জানেন না রোগীরা

মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা

সারাদেশ

চিকিৎসক না হয়েও হাসপাতালের চেম্বারে বসে মেডিকেল অফিসারের মতো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

2026-08-29T11:20:04+00:00
2026-08-29T11:24:52+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ডাক্তারের আসনে কার্ডিওগ্রাফার, জানেন না রোগীরা
মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ এএম  আপডেট: ২৯.০৮.২০২৬ ১১:২৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
চিকিৎসক না হয়েও হাসপাতালের চেম্বারে বসে মেডিকেল অফিসারের মতো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের ১১৭ নম্বর কক্ষে (এনসিডি কর্নার) মেডিকেল অফিসারের চেয়ারের পাশে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতে দেখা যায় কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমানকে। এ সময় তাঁর সামনে টিকিট হাতে চারজন রোগী দাঁড়িয়ে ছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসকের নির্দেশে তিনি রোগী দেখছেন।

চিকিৎসক না হয়েও রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি রোগীদের প্রেসার মাপেন এবং ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে বুঝিয়ে দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী এনসিডি কর্নারে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে সেখানে রোগী দেখার দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান চিকিৎসক নন; তিনি একজন কার্ডিওগ্রাফার। তাঁর মূল দায়িত্ব রোগীদের ইসিজি করা।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান, মোস্তাফিজুর রহমান মেডিকেল অফিসারের মতো একটি চেয়ারে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। তিনি জানান, ওই দিন সকাল থেকে ১২ জন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন।

সেখানে উপস্থিত চুহান হোসেন নামে এক রোগী বলেন, ‘আমি ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখানোর জন্য এসেছি। আমার স্ত্রীও এখানে চিকিৎসা নেন। তিনি যে চিকিৎসক নন, তা আমরা রোগীরা কীভাবে বুঝব?’

রোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মোস্তাফিজুর রহমান এনসিডি কর্নারে রোগী দেখছেন। এ ছাড়া ওই কক্ষে বসে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২২ জন চিকিৎসক ও আটজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। এতসংখ্যক চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও একজন কার্ডিওগ্রাফারকে নিয়মিত রোগী দেখানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও ইসিজির কাজ না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পরিবর্তে হাসপাতালের দায়িত্বরত সেবিকারা রোগীদের ইসিজি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি এনসিডি কর্নারে রোগীদের ওষুধ লিখে দিই। মাঝেমধ্যে ইসিজিও করাই। কার্ডিওগ্রাফার হলেও চিকিৎসাবিষয়ক চার বছরের ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট আছে। হাসপাতাল প্রধানের আদেশেই আমি এখানে বসি।’

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমদ বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ কার্ডিওগ্রাফার হিসেবে হলেও তিনি মেডিসিন বিষয়ে চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। কক্ষের স্বল্পতার কারণে তাঁকে এনসিডি কর্নারে রোগীদের নাম নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ডায়াবেটিস রোগীদের বই দেখে ওষুধ লিখে দেন।’


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: