জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়নকাজ তদারকির জন্য সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দিয়ে সরকার নির্বাচিত এমপিদের খাটো করছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় ইউনিট সভাপতিদের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নকাজ করবেন, বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিদের এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ‘দারোয়ান’ হিসেবে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি বেমানান এবং এর মাধ্যমে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আরও খাটো করা হচ্ছে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিরোধী দলের ১৩ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও তাদের উন্নয়নকাজ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন মন্ত্রী জাতীয় সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন এবং বিরোধী দলকে ছোট করে বক্তব্য দিচ্ছেন। অথচ তাঁর নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে যথেষ্ট নজর নেই।
সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান উন্নয়নও দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হচ্ছে এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী আসনে সুষম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকার দলীয়করণ করছে। তাঁর দাবি, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এভাবে প্রশাসক নিয়োগ করা অসাংবিধানিক।
তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে জনগণের ভোগান্তি কমবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সেই পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচিত সরকারকে ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সেই ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদ অধিবেশন ডেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।