ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের লংমার্চ এখন চট্টগ্রামের পথে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লায় পথসভা শেষ করে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
এর আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশ শেষে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে রওনা দেন জোটের নেতাকর্মীরা।
লংমার্চের গাড়িবহর প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি পথসভায় অংশ নেয়। পরে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পথসভা। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। পথসভা শেষে আবারও চট্টগ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে গাড়িবহর।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামে পৌঁছানোর আগে ফেনী ও মিরসরাইয়ে আরও দুটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জোটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন।
এ সময় লংমার্চের গাড়িবহরে থাকা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গাড়ির ছাদ খুলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
লংমার্চের কারণে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে যানবাহনের গতি কিছুটা কমে গেলেও বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
লংমার্চ চলাকালে নেতাকর্মীদের এসব দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়।