দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জনদুর্ভোগের অবসানসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সমাধানের জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’ দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব দাবি আদায় করে ছাড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি পান? চাঁদাবাজি ছাড়া কি ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় কি দুর্নীতি আছে? আপনারা কি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চান?’
তিনি বলেন, জনগণের দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সব দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন।
পথসভায় কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে সিলেট বিভাগ হওয়ার পর থেকেই কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি উঠে আসছে। দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নে আর কোনো অজুহাত না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর বাহানা করবেন না, কুমিল্লা বিভাগ দিয়ে দেন।’ কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে কুমিল্লার সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একটি অঞ্চলের মানুষের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো জেলা বা বিভাগের মানুষকে অবহেলা কিংবা অপমান করা হলে সেখানকার মানুষ কষ্ট পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চান, জেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট কি না।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সরকারের সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকারের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করেন তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের অংশ হিসেবে কুমিল্লার কর্মসূচিতে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।