ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী ১১ দলের লংমার্চ ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানিয়েছেন, শনিবারের কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শুরুতে প্রায় এক হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকায় উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এক ঘণ্টার সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সময়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি পথসভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না। আগে একটি প্রতিনিধিদল পরবর্তী সমাবেশস্থলে পৌঁছে বক্তব্য দেবে, পরে মূল গাড়িবহর ও শীর্ষ নেতারা সেখানে যাবেন।
যানজট কিংবা যান্ত্রিক কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা বা মাগরিবের মধ্যে গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে ১১ দলের নেতাদের অংশগ্রহণে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি গাড়িতে থাকবে আলাদা স্টিকার ও নম্বর। শীর্ষ নেতাদের গাড়ির পাশাপাশি নিরাপত্তা দল, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, আইটি ও মিডিয়া টিমের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গাড়িবহরের বিভিন্ন অংশের ব্যবস্থাপনায় আলাদা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়োজিত করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।
লংমার্চে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যাত্রাপথে গাড়ি থেকে না নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে ১১ দলের নেতাকর্মীরা পথসভায় জনসমাগম করবেন।
দীর্ঘ যাত্রার জন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শুকনো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লংমার্চ শুরু হওয়ার পর নতুন কোনো গাড়ি বহরের মাঝখানে প্রবেশ করতে পারবে না। কেউ পরে যুক্ত হতে চাইলে তাকে বহরের একেবারে শেষ প্রান্তে যুক্ত হতে হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এ কর্মসূচি সরকার পতনের কোনো আন্দোলন নয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জনদুর্ভোগ নিরসনসহ ঘোষিত ছয় দফা দাবি আদায় করাই লংমার্চের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতন্ত্রচর্চার অংশ। তাই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন তারা।
পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১১ দলের নেতারা সাক্ষাৎ করে লংমার্চের বিস্তারিত পরিকল্পনা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে সাধারণ মানুষকে দাঁড়িয়ে লংমার্চের গাড়িবহর ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার।
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের জনসভা ঘিরেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। চট্টগ্রাম মহানগরের ১১ দলের নেতারা কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
দেশবাসীর কাছে লংমার্চের সফলতার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। দীর্ঘ পথের এই কর্মসূচি সংবাদ সংগ্রহে সময় ও শ্রম দেওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।