মক্কার পবিত্র বায়তুল হারামে যখন একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হচ্ছিল, তখন গর্বে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মুখ। ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া চার হাফেজই অর্জন করেছেন সাফল্য। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তার পক্ষ থেকে মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।
তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কুরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।
জামায়াত আমির বলেন, বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননা দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশে ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কুরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের সরকারের যথাযথ সহযোগিতা করা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাদের ন্যায্য অধিকার।
মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে উল্লেখ করে এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষকদের সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চার হাফেজের এ অর্জন যেন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় গৌরব হিসেবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সবাই মিলে বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে—যে বাংলাদেশ হবে মানবিক, ইনসাফভিত্তিক এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি।