ময়লা যাবে প্ল্যান্টে, তৈরি হবে সার-বায়োগ্যাস—শিবচরে বদলে যাচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

মাদারীপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভায় প্রায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রকল্পটি

2026-08-28T16:06:54+00:00
2026-08-28T16:06:54+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ময়লা যাবে প্ল্যান্টে, তৈরি হবে সার-বায়োগ্যাস—শিবচরে বদলে যাচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
মাদারীপুর সংবাদদাতা
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভায় প্রায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রকল্পটি চালু হলে পৌর এলাকার প্রতিদিনের বর্জ্য আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস। এতে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্বল্পমূল্যে জৈব সার পেয়ে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমার আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হলে পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে শিবচর পৌরসভাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রকল্পের সুফলের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জমির মালিকরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রায় তিন বছর পার হলেও এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ তাঁরা পাননি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায় ২ দশমিক ৬৮ একর জমির ওপর ২০২৩ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ১ দশমিক ৫৪ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং ১ দশমিক ১৪ একর খাস জমি।

ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্ন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউনিটটি চালু হলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে এনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে।

উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম দুই বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে জৈব সার উৎপাদন করবে। পরবর্তী সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত জৈব সার কৃষকদের স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা গেলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা ও চাষাবাদের ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোরহাব মিয়া বলেন, শিবচরে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় সমস্যা। আধুনিক এই প্রকল্প চালু হলে পৌর এলাকা পরিচ্ছন্ন হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

কৃষক হামেদ মিয়া বলেন, বর্তমানে রাসায়নিক সারের দাম অনেক বেশি। প্রকল্প থেকে উৎপাদিত জৈব সার যদি কম দামে পাওয়া যায়, তাহলে কৃষকদের চাষাবাদের খরচ কমবে। একই সঙ্গে জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং ফলনও বাড়তে পারে। দ্রুত প্রকল্পটি চালুর দাবি জানান তিনি।

পৌরসভার উপশহর এলাকার বাসিন্দা এনামুল শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপশহরের শেষ প্রান্তে খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরাও নানা সমস্যায় পড়ছে এবং আশপাশের পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এমনকি দুর্গন্ধের কারণে স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও ভোগান্তি হয়। তাই দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটটি চালু করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, জমি অধিগ্রহণের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁরা প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাননি।

শিবচর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে শিবচর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা আবর্জনা এখানে এনে প্রক্রিয়াজাত করা হবে এবং উৎপাদিত জৈব সার কৃষকরা স্বল্পমূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা প্রয়োজন। প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পৌর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষির উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: