পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় সড়কের ওপর থাকা পুরোনো ও পরিত্যক্ত একটি ভবন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় সড়কের ওই অংশ সরু হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির কারণে সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে দৃষ্টিসীমা কমে গেছে। বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। ব্যস্ত এই আঞ্চলিক সড়কে দ্রুত ভবনটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে ওই এলাকায় সড়ক নির্মাণের সময় বিভিন্ন জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবনটির মালিক মাওলানা আব্দুল হকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড যথাযথ না থাকায় তিনি সে সময় সড়ক বিভাগের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি বা গ্রহণ করতে পারেননি।
পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থলে আধুনিক পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং সম্প্রতি নতুন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে।
সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ভবন মালিকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় ভবনটি অপসারণের জন্য তাঁকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে তিনি সম্মত হননি। ভবন অপসারণ বন্ধে তিনি পুনরায় আদালতে আপিল করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির নেতা গিয়াসউদ্দিন অলি বলেন, ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন সেতুর কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবন মালিক তাতে সম্মত না হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা জানান, বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের একটি অংশজুড়ে ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সহজে দেখা যায় না। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক অটোশ্রমিক নেতা বলেন, ভবনটির কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এর সমাধান করা প্রয়োজন।
পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল মুঠোফোনে বলেন, সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর কচুয়াকাঠী এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন। পরিত্যক্ত ভবনের মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্রিজ নির্মাণে বর্তমানে কোনো বাধা নেই। তবে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হলে ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন। জনদুর্ভোগের বিষয়টি ভবন মালিক বুঝবেন এবং ভবন অপসারণে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে ভবনটির মালিকের বক্তব্য এবং মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, মানুষের জীবন ও সড়ক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মামলার শুনানির সময় জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং চলমান উন্নয়নকাজের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কচুয়াকাঠী এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করবে।