নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৩৮১ জন। নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশটির কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহের ভিত্তিতে নিহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চললেও নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় শুক্রবার ভোতে কোশি নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করে। এতে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু পাহাড়ি এলাকায় সরে যেতে শুরু করেন।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায় ১৮৬টি। এছাড়া নওয়ালপরাসী পূর্বে ১১২, গোর্খায় ৪৪, ধাদিংয়ে ৪০, নুয়াকোটে ৩৭, তানাহুনে ২৯, নওয়ালপরাসী পশ্চিমে ২৮ এবং রসুয়া জেলায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যেও রয়েছেন বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১ জনের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক রয়েছেন।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে বেড়াতে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১ হাজার ৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এরই মধ্যে তিব্বতের দিকে ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়া এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী। নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ চলছে।