গোপালগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙনের শিকার হয়ে অনেকে নিজের জেলা ছেড়ে পাশের জেলা নড়াইলে আশ্রয় নিচ্ছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও বিস্তৃত হতে পারে ভাঙন। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রতিরক্ষা কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে নদীভাঙন রোধে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ চিত্র গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি মোল্লাপাড়ার নদীভাঙন এলাকার। এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মধুমতি ও বাঘিয়া নদী। নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক ভেঙে পড়ছে নদীর পাড়। কোথাও বসতভিটা, কোথাও ফসলি জমি, আবার কোথাও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চলে গেছে নদীগর্ভে। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখন এমনই চিত্র।
নদীভাঙনের সঙ্গে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা। বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন স্থানীয়রা। তবে চলতি বছর নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ বছর প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও বড় এলাকা ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
নদীভাঙনের ক্ষত শুধু বসতভিটা হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবারকে পাড়ি জমাতে হচ্ছে পাশের জেলা নড়াইলে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘গোপালগঞ্জে আগে থেকেই নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা থাকলেও এ বছর নতুন করে আরও প্রায় ১ হাজার মিটার এলাকায় নদীভাঙন হওয়ায় নদীর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে আমাদের জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের নির্দেশ দেন। এরপর আমরাও পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এই জেলায় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন রয়েছে। সেসব এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সদর উপজেলার ডুবশি এলাকায় মধুমতি নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। এই কাজ যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে মধুমতির ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও সম্ভাব্য ভাঙন এলাকায় নদীভাঙন রোধে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ করছে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর পাড় রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নদীভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিল করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
নদীভাঙন থামাতে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে শুধু ঘরবাড়িই নয়, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, অস্থায়ী নয়—প্রয়োজন নদীভাঙন রোধে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।