জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ২৭ আগস্ট, ১২ ভাদ্র জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস। দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে থাকছে নাটক, সংগীত, কবিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এনটিভিতে নজরুলের গান ও নাটক
নজরুল প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে এনটিভিতে বুধবার বেলা ১টায় প্রচার হবে নাটক ‘গভীর নিশীথে’। জাতীয় কবির গান অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার এবং পরিচালনা করেছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল। এতে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, বাঁধনসহ অনেকে।
সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে প্রচার হবে সংগীতানুষ্ঠান ‘অন্তরে তুমি আছো চিরদিন’। হুমায়ূন ফরিদের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানে নজরুলের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করবেন খায়রুল আনাম শাকিল, ইয়াকুব আলী খান, লীনা তাপসী খান, ইয়াসমীন মুশতারী, ফেরদৌস আরা ও এম এ মান্নান।
এ ছাড়া রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে ‘মিউজিক নাইট’। এতে গান পরিবেশন করবেন সংগীতশিল্পী ঋতুরাজ ও প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস।
দুরন্ত টিভিতে শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন
দুরন্ত টিভিতে সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টায় প্রচার হবে নজরুলের জনপ্রিয় গান নিয়ে অনুষ্ঠান ‘গানের পাখি বুলবুল’। এতে গান পরিবেশন করেছে দেবষ্মিতা কুন্ডু, আনন্দী ঘোষ, আহনাফ নবী আরিক, তানচৈ বালা তিথী ও তাশফিয়া তাসনিম গুনগুন।
সকাল ৮টা ৩০ মিনিট ও বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দেখা যাবে ‘সকাল বেলার পাখি’। নজরুলের বিভিন্ন কবিতার নাটকীয় উপস্থাপনা করেছে কল্পরেখার ছোট্ট বন্ধুরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন ফরিদা লিমা।
শিল্পকলায় দুই দিনের আয়োজন
জাতীয় কবির ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতেও চলছে নানা আয়োজন। এরই অংশ হিসেবে গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শিশু-কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’।
এ আয়োজনে ৫০ জন শিশু-কিশোর শিল্পী সমবেতভাবে পরিবেশন করে উদ্বোধনী সংগীত ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য’ ও ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’। এ ছাড়া ৫০ জন শিশু-কিশোর শিল্পী পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি’। নাচ, গান ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় রাফিদ জাহিন প্রাচ্য, সাবরিনা জাহান সেঁজুতি, রবিউল ইসলাম শান্তসহ অনেকে।
এ ছাড়া জাতীয় কবির কালজয়ী সৃষ্টিকে স্মরণ করতে আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’।
নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় কবির সৃষ্টিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই এসব আয়োজন করা হয়েছে।