হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস সার্ভিসের শ্রীমঙ্গলে স্টপেজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় যাত্রী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক জনপদ। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও প্রশাসনিক নানা কাজে প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ ও সিলেটে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসে শ্রীমঙ্গলে কোনো স্টপেজ না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা বলেন, স্টপেজ না থাকায় শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ ও সিলেটগামী যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হওয়া সত্ত্বেও জনপ্রিয় আন্তঃজেলা বাস সার্ভিসটিতে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ না থাকায় এখানকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রীমঙ্গলে একটি নির্দিষ্ট স্টপেজ চালু করা হলে উপজেলা ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।
সংস্কৃতিকর্মী মো. তারেক ইকবালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ ঐক্য উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নিহার রঞ্জন দেবনাথ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিতালী দত্ত, কোষাধ্যক্ষ সুলতান আহমদ, সদস্য মো. ওয়াহিদ হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য সৈয়দ আমিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, “শ্রীমঙ্গলবাসী কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না; তারা ন্যায্য ও স্বাভাবিক যাতায়াতের সুযোগ চান।” জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের শ্রীমঙ্গলে যাত্রী ওঠানামার জন্য একটি স্টপেজ নির্ধারণের আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ যাত্রীরা বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ হবিগঞ্জ ও সিলেটের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। শ্রীমঙ্গলে স্টপেজ চালু হলে যাত্রীদের সময়, শ্রম ও অর্থ, তিনটিই সাশ্রয় হবে।
সমাবেশ থেকে দ্রুত স্টপেজ চালুর দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।