ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় খুলনায় জোরদার করা হয়েছে মশক নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পও পরিচালনা করছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে এসব কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দিনভর একাধিক এলাকায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করেন তিনি।
সকাল সোয়া ১১টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা হরিজন কলোনিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পানি নিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রমের খোঁজ নেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চালানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও জলাশয়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সেখানে মশার বংশবিস্তার না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় দুই মাস আগে থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধকে কেসিসির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সোনাডাঙ্গা থানাধীন ১০, ১৬, ১৭ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন প্রশাসক। এরপর দুপুর ১২টার দিকে সদর থানা এলাকার আহসান আহমেদ রোড, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে যান তিনি।
সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা থানাধীন টুটপাড়া তালতলা ৩০ নম্বর ওয়ার্ড এবং দুপুর ১টার দিকে নতুন বাজার বেড়িবাঁধ চরবস্তি ২২ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিকেল ৪টায় কেসিসির সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। এরপরও বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান অব্যাহত থাকে।
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের কারণে কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নগরীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সব বিভাগকে মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে কেসিসি প্রশাসক বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস), বাজার ও কসাইখানা পরিদর্শন করছেন। গল্লামারী কসাইখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরেজমিনে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি নগরীর খাল-নালা পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মশক নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করে কেনা এবং এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেসিসি।
প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, কেসিসির চলমান পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান যেন নিয়মিত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ নেয়। ড্রেন-খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি খুলনাকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।