বাস শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধের দাবিতে বরিশালে ফের বাস ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বরিশালের রহমতপুর এলাকায় একটি বাসের চালক ও হেলপারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
বাস শ্রমিকদের দাবি, সোমবার বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের পর আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে রহমতপুর এলাকায় আবারও একটি বাসের চালক ও হেলপারকে মারধর করা হয়। এতে হাসানসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
আহত হাসানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বাস শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধের দাবিও জানান তিনি।
বাস মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধের কারণে বরিশাল থেকে বিভিন্ন রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন সড়কে আটকা পড়েছেন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বানারীপাড়ার শিমুলতলা এলাকায় বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে প্রায় তিন ঘণ্টা বরিশালের মহাসড়কে বাসসহ বিভিন্ন যান চলাচল বন্ধ ছিল।